কোন্দল মেটাতে কঠোর আ.লীগ

আগামী জাতীয় নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে—এমনটা ধরে নিয়েই নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে ক্ষেত্রে ভোটের মাঠে জয় পেতে এ মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে চাইছে। এজন্য কঠোর অবস্থানও নিয়েছে। স্বয়ং দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন।

 

গত শনিবারও গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি নিজেও পর্যায়ক্রমে কোন্দলপূর্ণ জেলার নেতাদের সঙ্গে গণভবনে নিয়মিত বৈঠক করছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও কোন্দল নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মনে করছেন, এই কোন্দলই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে না পারলে, আওয়ামী লীগের জন্য ভোটের মাঠে ঘরের শত্রু-ই বিভীষণ হতে পারে।

 

তবে নির্বাচনের আগেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন বলে মনে করছেন সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে কিছু ভুল বোঝাবুঝি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা আমরা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নির্বাচন অনেক কাছে চলে এসেছে। এ মুহূর্তে দলের মধ্যে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, এই কোন্দল থাকবে না।’

 

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় সংগঠন। সেখানে মাঝেমধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়। যেখানে সাংগঠনিক সমস্যা, সেখানে সাংগঠনিক সমাধান দেওয়া হচ্ছে। যেটাতে আইনশৃঙ্খলাগত বিষয়, সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে অনেক জেলায় দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে আছে। ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে অন্তত অর্ধেকে দ্বন্দ্ব চরমে। গত কয়েক মাসে জয়পুরহাট, নাটোর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়াসহ বেশবিছু জেলার দ্বন্দ্ব নিরসনে নেতাদের ঢাকায় ডেকে বৈঠক করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক। তবে তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। জেলা-উপজেলা শুধু নয়, খোদ রাজধানীতেই কোন্দলে লিপ্ত দল। নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী ও সিরাজগঞ্জ জেলাকে বিরোধপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলায় ধারা উপধারায় রাজনীতি চলছে। পদ-পদবি ধরে রাখা, সুবিধাভোগী-সুবিধাবঞ্চিত থাকা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে সৃষ্ট এসব বিরোধ কোথাও কোথাও ব্যাপক আকার নিচ্ছে।

 

দলের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি দলীয় কোন্দল মেটাতে এ মুহূর্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় মাস ধরে কোন্দলপূর্ণ জেলার নেতাদের ডেকে নির্বাচনী আসনগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নিচ্ছেন। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রকৃত এবং ত্যাগী নেতারাই মনোনয়ন পাবেন বলে সতর্কও করছেন। দুই মাস ধরে কোন্দলপূর্ণ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের গণভবনে ডেকে কথা বলছেন। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে এলাকার সাংগঠনিক অবস্থা, আগামী নির্বাচনে দলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নিচ্ছেন। এরপর তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি নেতাদের আশ্বাস দিচ্ছেন, ত্যাগী এবং কর্মীবান্ধব নেতারাই মনোনয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবেন।

 

সর্বশেষ গত শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের অন্তর্কোন্দল সৃষ্টিকারী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দলের ও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না এবং দলীয় পদধারী হলে বহিষ্কার হবেন। এসব বিদ্রোহী নেতার তালিকা করতে আট সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচন, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন দলের নেতারা।

 

এর আগে গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সভায়ও দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও কোন্দল বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন সম্পাদকম-লীর নেতারা। ওই বৈঠকে নেতারা বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলের পরাজয়ের শঙ্কা বাড়ছে। তাই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দ্রুত শুদ্ধি অভিযান শুরু করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।

 

এ ছাড়া তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *