ফের অান্দোলনের ঘোষণা

সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আবারও রাস্তায় ফিরে গেলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদে আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. রাশেদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। এসময় সেখানে যোগ দেন সোমবার সন্ধ্যা থেকে টিএসসির সামনে অবস্থান নিয়ে আলাদাভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরাও। সংবাদ সম্মেলনের পর ঢাবির টিএসসির সামনের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য ঘিরে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

 

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান বলেন, ‘গতকাল সোমবার আমরা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। কিন্তু একই সময়ে জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদেরসহ ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এ বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেননি। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আজ ঘোষণা দিয়েছেন আগামী বাজেটের আগে কোটা সংস্কার করা হবে না। সংস্কার নিয়ে তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, খুব দ্রুত কোটা সংস্কারে তাদের কোনও চিন্তা ভাবনা নেই। এ কারণে আমরা আবার আমাদের নিয়মিত কর্মসূচিতে ফিরে যাচ্ছি।’ তিনি এ সময় সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং অবরোধের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

 

সোমবার সংসদ অধিবেশনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, ‘পরিষ্কার বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা দেখে নেবো। তবে ছাত্রদের প্রতি আমাদের কোনও রাগ নেই। মতলববাজ, জামায়াত-শিবির, তাদের এজেন্টদের বিরুদ্ধে সামান্য শৈথিল্য দেখানো হবে না।’

 

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘কত শতাংশ কোটা রাখা হবে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুর্দিনিষ্টভাবে ঘোষণা এলেই কেবল আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করব। একইসঙ্গে খুব দ্রুত কোটা সংস্কারের ঘোষণাও আসতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রশাসন গতকাল আশ্বাস দিলেও কেউ এখনও যোগাযোগ করেনি। গ্রেফতারদেরও এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।

 

আন্দোলনে বিভক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আন্দোলনকারীদের একাংশ তা মানেননি। তারা আলাদাভাবে আন্দোলন  চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আজ থেকে আবার আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *